সূচনালগ্ন থেকেই রাজনীতি মুক্ত ক্যাম্পাস নামে প্রচারিত হলেও রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রতিষ্ঠায় হয় রাজনৈতিকভাবে বা রাজনীতির সহায়তায়। আর বর্তমানে ক্যাম্পাস জুড়ে চলছে অতি-রাজনীতি। নষ্ট হয়েছে শিক্ষা পরিবেশ, অনেকের মন্তব্য- প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। আতঙ্কিত সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ।


সূত্র থেকে জানা যায়- বর্তমানে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরেই চলছে ছাত্রদলের রাজনৈতিক কার্যক্রম। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য মনিরুজ্জামান মোস্তাক, শামসুর রহমান বাবু, হালিমা, জুলফিকার ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসের মধ্যে ছাত্রদলের কমিটি পাপন, শুভ’কে অভিনন্দন জানানোর চিত্র সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

এছাড়াও সম্প্রতি- বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টিবোর্ডের পদসমূহ জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে। এখানেও ছাত্রদল ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করেছেন উর্ধতন কর্মকর্তারা। এবং আজ ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ বিশ্ববিদ্যালয় এর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে প্রকাশ করা হয়েছে- বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফিস জমা নেওয়ার জন্য নির্ধারিত জনতা ব্যাংক একাউন্ট নিয়ে অভ্যন্তরীন সমস্যার কথা। এতে হতাশা প্রকাশ করছেন অধিকাংশ শিক্ষার্থী।


ইতোপূর্বে, বিশ্ববিদ্যালয় এর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের লেটার-হেডে দলীয় নেত্রীকে শুভকামনা জানিয়ে পোস্ট করলে সাধারণ শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবাদের মুখে সেটা ডিলিট করতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে নোটিশ দিয়ে পুনরায় রাজনীতি মুক্ত ক্যাম্পাস ঘোষণা করা হয়। এর পরে পূনরায় নোটিশ প্রকাশ করা হয় যে, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবে, কিন্তু সেটা ক্যাম্পাসের বাইরে। এই নোটিশের পরবর্তী সময়ে ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা হিসেবে কমিটি গঠন করে। ছাত্রদল ক্যাম্পাসের বাইরে কার্যক্রম পরিচালনা করার দাবী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখি করলেও একাধিক সূত্র থেকে জানা যায় তাদের কার্যক্রম ক্যাম্পাসেও চলমান।


অন্যদিকে ল্যাব ইনচার্জ রানা এবং সহযোগী মেহেদিকে তাদের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুললে তারা সম্প্রতি ছাত্রদলের কর্মীদের সাথে নিয়ে শিক্ষার্থীদের অকথ্য গালিগালাজ করেছেন ও হুমকি ধামকি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভুগী শিক্ষার্থীরা।
এছাড়াও, ৫ আগস্ট পূর্বে- ফ্যাসিবাদ স্বৈরাচার আওয়ামী সরকার ও তার দোসরদের আনুগত্যে নত থাকার কথা তুলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এবং বিষেশ সূত্র থেকে জানা যায়- ২০২৪ এর জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে মিরপুর ও ভেড়ামারার বাসিন্দা শিক্ষার্থীদেরকে ডেকে শ্রেণিকক্ষে একত্রিত করে- জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু’র পক্ষে ভোট প্রদান ও প্রচার-প্রচারনা করতে অনুরোধ করেন শিক্ষক ও কর্মকর্তারা। সেখানে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের ইতিহাস বর্নণা করে- হাসানুল হক ইনু’র প্রশংসায় মুখরিত বক্তব্য রাখেন সাবেক রেজিস্টার (ভারপ্রাপ্ত) ড. মোছাঃ ইসমত আরা খাতুন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের বর্ণনা অনুসারে রাজনীতি মুক্ত ক্যাম্পাস শুধু প্রচারেই কিন্তু বাস্তবে সেটার বিপরীত।
পূর্বে, সকলের অগোচরে রাজনীতি চলমান থাকলেও তেমন বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি, নষ্ট হয়নি শিক্ষা পরিবেশ। বর্তমানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের চাওয়া সার্বিক বিশৃঙ্খলা নির্মুল করে, নিরপেক্ষ শিক্ষা পরিবেশ সৃষ্টি করতে অতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ যাতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত হয় এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আতঙ্কের অবসান হয়।

