কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়া শহরে অবস্থিত রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিগত ১০ মাস ধরে চরম প্রশাসনিক অচলাবস্থা, অনিয়ম ও অর্থ হরিলুট চলছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান উদ্যোক্তা ড. মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম। শিক্ষার্থীদের জীবন ও ভবিষ্যৎ রক্ষায় তিনি তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নিজের ফেসবুক পোস্টে ড. জহুরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান চরম সংকটজনক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেন। তাঁর উত্থাপিত অভিযোগগুলো হলো:
-
প্রশাসনহীনতা ও জালিয়াতি: বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে কোনো ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) নেই। দায়িত্বপ্রাপ্ত ভিসিকে কতিপয় বিপথগামী বিওটি (বোর্ড অব ট্রাস্টিজ) সদস্য জোরপূর্বক বের করে দিয়েছে এবং একটি ভুয়া ট্রাস্ট দলিল তৈরি করেছে।
- অর্থ হরিলুট: শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থ অবৈধ চ্যানেলে পরিচালিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ব্যাংক হিসাব স্থগিত (ফ্রিজড) থাকার পরও কোনো অডিট ছাড়াই তহবিল নিয়ে হরিলুট চলছে।
- স্বচ্ছতার অভাব: দীর্ঘদিন ধরে কোনো একাডেমিক কাউন্সিল, সিন্ডিকেট বা অর্থ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে একাডেমিক, প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রমে চরম অস্বচ্ছতা বিরাজ করছে এবং সমাবর্তনের কোনো উদ্যোগ নেই।
-
বেআইনি বরখাস্ত: কোনো প্রকার সিন্ডিকেট সভা বা তদন্ত প্রক্রিয়া ছাড়াই ১৮ জন শিক্ষক ও কর্মকর্তাকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
-
অবৈধ সনদ ও পরীক্ষা: ভিসির অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে দুই-একজনকে সনদ দেওয়া হয়েছে, যার কোনো আইনি বৈধতা নেই। এছাড়া শিক্ষার্থী ভর্তি, পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল প্রকাশ ও সনদ ইস্যু করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে চলছে।
-
অবৈধ ভর্তি কার্যক্রম: শারীরিক শিক্ষা বিভাগে প্রয়োজনীয় শিক্ষক না থাকা সত্ত্বেও এবং আগে থেকে ভর্তি বন্ধ থাকার পরও বর্তমানে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করে প্রোগ্রাম চালানো হচ্ছে।
-
নিয়োগ বাণিজ্য ও স্বজনপ্রীতি: যথাযথ নিয়োগবোর্ড ছাড়াই আত্মীয়করণের মাধ্যমে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে এবং এসব নিয়োগের বিনিময়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
ড. জহুরুল ইসলামের এই পোস্টের পর কুষ্টিয়ার শিক্ষাঙ্গনসহ স্থানীয় সচেতন মহলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। হাজারো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম রক্ষায় দ্রুত সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

