কুষ্টিয়ার রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য-রেজিস্ট্রারকে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ, নেপথ্যে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা!

কুষ্টিয়া কুষ্টিয়া জুড়ে ক্যাম্পাস
শেয়ার করুন

কুষ্টিয়ার রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য (ভিসি) ও রেজিস্ট্রারসহ সিনিয়র প্রফেসরদের জোরপূর্বক পদত্যাগপত্র সই করিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের কতিপয় সদস্যের বিরুদ্ধে। এই কাজে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হচ্ছে।

 

জানা যায়, গত ৮ই ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য মনিরুজ্জামান মোস্তাক, আবু সাঈদ আব্দুল্লাহ, শামসুর রহমান বাবু ও জুলফিকারসহ কয়েকজন মিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে ক্যাম্পাসে একটি মব সৃষ্টি করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা জোরপূর্বক বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য প্রফেসর ড. শাহজাহান আলী এবং রেজিস্ট্রার আব্দুল লতিফকে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। এরপর তাদের দুজনকে লাঞ্ছিত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য ছাত্র-শিক্ষক-কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগও উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ৫ই আগস্ট, ২০২৪ পরবর্তী সময়ে বোর্ড অব ট্রাস্টিজের তৎকালীন চেয়ারম্যান হাসানুল হক ইনু গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদ নিয়ে তীব্র দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. জহুরুল ইসলামকে নিয়েও অভিযোগ ওঠে। তাঁর বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও ভাড়াটিয়া এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার মতো ঘটনা ঘটেছিল বলে জানা যায়।

এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা তাদের স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ ফিরিয়ে আনা ও ট্রাস্টি বোর্ডের দ্বন্দ্ব নিরসনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপিও প্রদান করে। ঠিক তার এক বছর পর, উপাচার্য প্রফেসর ড. শাহজাহান আলীর মেয়াদ শেষ হওয়ার দিনে (৮ই ডিসেম্বর) ক্যাম্পাসে মবের সৃষ্টি করে তাকেসহ রেজিস্ট্রার আব্দুল লতিফকে জোরপূর্বক পদত্যাগ করানো হয়। এরপর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য মনিরুজ্জামান মোস্তাকের ভাইরা নওয়াব আলীকে (ইসলামিয়া কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ) রেজিস্ট্রার হিসেবে চেয়ারে বসানো হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্যদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি শামসুর রহমান বাবু, ইবি অধ্যাপক আবু সাঈদ মোহাম্মদ আলী, অধ্যাপক হালিমা খাতুন, মনিরুজ্জামান মোস্তাক ও জুলফিকারের বিরুদ্ধে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ মতে, তারা সবাই মিলে প্রফেসর আবু সাঈদ মোহাম্মদ আলীকে চেয়ারম্যান করে একটি ভুয়া দলিল তৈরি করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট করে ট্রাস্টি বোর্ডের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্য ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ব্যবহার করে সিনিয়র প্রফেসরদের পদত্যাগ করানোর এমন নজিরবিহীন ঘটনায় ক্যাম্পাসে বর্তমানে চরম প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে। ফলশ্রুতিতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও একপ্রকার গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ ও ট্রাস্টি বোর্ডের পক্ষ থেকে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *