মিরপুর (কুষ্টিয়া): কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারী কার্যক্রমের জন্য তথ্য সংগ্রহকারী (গণনাকারী) ও সুপারভাইজার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া ও আবেদনের সময়সীমা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে দেখা দিয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্য।
জানা গেছে, নিয়োগের আবেদনের সময়সীমা ২৩ জুলাই থেকে ১ দিন বাড়িয়ে ২৪ জুলাই (শুক্রবার) পর্যন্ত করা হয়। এই উপলক্ষে ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও মিরপুর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় খোলা রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
মিরপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জামশেদ আলী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানান, “মিরপুর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির কাজের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের আবেদনের সময়সীমা ২৩ জুলাই থেকে বাড়িয়ে ২৪ জুলাই শুক্রবার পর্যন্ত করা হয়েছে। এ কারণে শুক্রবার মিরপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিস খোলা থাকবে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ নেটিজেনদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এ বিষয়ে সরাসরি কড়া মন্তব্য করেন মিরপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইব্রাহিম আলী। তিনি এক ফেসবুক কমেন্টে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে লেখেন, “কোনো জামায়াত, কোনো আওয়ামী লীগ এই প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করবে না, স্পষ্ট কথা।” তার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক গুঞ্জন ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
তবে রাজনৈতিক বাদানুবাদের বাইরে সাধারণ নেটিজেনরা শুমারির কাজের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার ওপর জোর দিচ্ছেন। অনেক সাধারণ ব্যবহারকারী সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্য করে বলছেন, “শুমারির কাজে দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে সার্বিক দক্ষতা ও যোগ্যতা বিবেচনা করা উচিত। কে বা কারা আবেদন করছে সেটি মুখ্য বিষয় না হয়ে যেন সঠিক ও নির্ভুল শুমারি সম্পন্ন হয়, প্রশাসনকে সেদিকেই খেয়াল রাখতে হবে।”
উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ডের মতো সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ শুমারিতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে যোগ্যদের স্থান দেওয়া হবে কি না—তা নিয়েই এখন পুরো মিরপুরজুড়ে আলোচনা চলছে।
